September 30, 2022, 12:40 am

বিজ্ঞপ্তি :
সাপ্তাহিক হবিগঞ্জের খবর পত্রিকায় আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি, সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা, রেকর্ড টেম্পারিং হচ্ছে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কঠোর গোপনীয়তায় এমপিও ছাড়! তিন বছর ধরে ৩ সহকারি, মৌলভী পদোন্নতি ও ডাবল ইনডেক্সের বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণ ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলার চার্জ গঠন ছুটির ঘোষণা ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক হবিগঞ্জসহ দেশের ৬১ জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ॥ পরবর্তী চেয়ারম্যান নিয়ে আলোচনা সদর থানার ওসি মাসুক আলী আজমিরীগঞ্জ বদলি ॥ নতুন ওসি গোলাম মর্তুজা বানিয়াচংয়ে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন আবারও মাংসের অতিরিক্ত দাম আদায় ॥ ক্রেতাদের নাভিশ^াস হবিগঞ্জে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৫৮ জন
একাধিক মাদক মামলা দুই পুুত্রের বিরুদ্ধে ॥ ছেলেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে পিতার সংবাদ সম্মেলন

একাধিক মাদক মামলা দুই পুুত্রের বিরুদ্ধে ॥ ছেলেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে পিতার সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মাধবপুর উপজেলার কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার দাসের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে হয়রাণীর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যক্তি। অভিযোগকারী ওই ব্যক্তি উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের ইউসুফ আলী। গত বুধবার দুপুর ১২ টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন- তার দুই ছেলে আব্দুস সালাম ও আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে হয়রাণী করছেন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উত্তম কুমার দাশ। এছাড়াও তিনি নানা ধরণের অভিযোগ তুলেন উত্তম কুমার’র বিরুদ্ধে। ইউসুফ আলী সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ তুলেছেন সেগুলো কতটুকু সত্য তা জানার চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে জানা যায়- ইউসুফ আলী নিজেকে ও তার দুই ছেলেকে এলাকার নিরিহ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করলেও প্রকৃতভাবে তার দুই ছেলেই দুর্ধর্ষ মাদক কারবারী। দুই ছেলের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এছাড়া মাদকসহ সিলেট ও হবিগঞ্জে আটক হয়েছেন দুইজনই। প্রতিবেদকের হাতে আসা তথ্যমতে- ইউসুফ আলীর বড় ছেলে আইয়ুব আলীর (৩৭) বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি মাদক মামলা। এছাড়া ছোট ছেলে আব্দুস সালামের (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা ৫টি। ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর মাদকসহ দুইভাই সিলেট এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে এয়াপোর্ট থানা। মামলা নং- ১৮/২০১৮। তার বিরুদ্ধে বাকি চারটি মামলা হয় মাধবপুর থানায়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২ মে (মামলা নং-৩১), ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর (মামলা নং- ৩৯/২০২০), ২০২১ সালের ৬ আগস্ট (মামলা নং- ১৪/২০২১) এবং ২০২১ সালের ২৪ সেস্টেম্বর (মামলা নং- ৩৩/২০২১)। আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের সিলেট এয়ারপোর্ট থানা ছাড়াও ২০২১ সালের ১৮ মে চুনারুঘাট থানায় একটি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। যার নং- ৩০/২০২১। তাদের সম্পর্কে কথা হয় এলাকার রওশন আলীর সাথে। তিনি বলেন- ‘আমার বাড়ি আলীনগর। তবে মোহনপুর ও আলী নগর পাশাপাশি গ্রাম, বলতে গেলে একই। ইউসুফ আলীর দুই ছেলে আইয়ুব আলী ও আব্দুস সালামকে আমি ভালোভাবেই চিনি। যাতাদের নিয়মিত যাতায়াত আমাদের বাড়ির উপর দিয়েই।’ তিনি বলেন- ‘এলাকায় তারা মদক ব্যবসায়ি হিসেবেই পরিচিত। তবে আমি কোনদিন তাদেরকে সরাসরি এসবে পাইনি। আবার তারা যদি বলে পুলিশ তাদেরকে হয়রাণী করছে তাহলে সেটা ভুল হবে। কারণ পুলিশ কোন নিরপরাধ মানুষকে হয়রাণী করে না। তাদের বিরুদ্ধে ৫টা-৭টা করে মামলা আছে, তাই মাঝে মধ্যে তাদের বাড়িতে এসে তদন্ত করে।’ ইউসুফ আলীর প্রতিবেশি আবু বকর বলেন- ‘এলাকার মানুষ ইউসুফ আলী দুই ছেলেকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জানে। তবে আমি সরাসরি তাদেরকে কোনদিন মাদক ব্যবসা করতে দেখিনি। তবে আমার মনে হয় তারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের চলাচলে অনেক সমস্যা আছে। এছাড়া মাদক ব্যবসা না করলে পুলিশ কেন অযথা হয়রাণী করবে? কোন নিরিহ মানুষকে পুলিশ হয়রাণী করতে দেখিনি।’ ইউপি সদস্য (ওয়ার্ড মেম্বার) বলেন- ‘সত্যটাতো গোপন করা যাবে না। ইউসুফ আলীর ছেলেদের বিরুদ্ধে ৫/৭টা মামলা রয়েছে। সেটিতো অস্বীকার করা যাবে না। এছাড়া পুলিশ যদি হয়রাণী করে তাহলে ১/২টা করতে পারে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। এখন কাশিমনগর ফাঁড়ির পুলিশতো সিলেট গিয়ে মামলা করতে পারবে না?’ ইউসুফ আলী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন- গত ২০ ফেব্রুয়ারি এসআই উত্তম কুমার দাস তার বাড়িতে গিয়ে তদন্তের নামে লুটপাট করে। এ সময় গরু বিক্রির দুই লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যান উত্তম কুমার! তার এই অভিযোগ কতটুকু সত্য জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন- ‘এটা একদম মিথ্যা কথা। তারা কোন গরু বিক্রি করেছে বলে আমি জানি না। এছাড়া দুই লাখ টাকা নিয়ে গেলেও মেম্বার হিসেবে আমাকে জানানোর কথা। কিন্তু সেদিনতো তারা এমন কিছু বলেনি। আজ কেন বলবে ?’এ বিষয়ে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার দাস বলেন- ‘তারা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি। তাদের বিরুদ্ধে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় মামলা রয়েছে। আমি কাশিমনগর ফাঁড়িতে যোগদান করি ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২০১৮ সালের আগ থেকে। তাহেল সেগুলোও কি আমি করেছিলাম। এছাড়া সিলেটেও তারা দুই ভাই মাদকসহ আটক হয়েছে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Innovativenews
Design & Developed BY innovativenews