August 14, 2022, 11:14 pm

বিজ্ঞপ্তি :
সাপ্তাহিক হবিগঞ্জের খবর পত্রিকায় আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কঠোর গোপনীয়তায় এমপিও ছাড়! তিন বছর ধরে ৩ সহকারি, মৌলভী পদোন্নতি ও ডাবল ইনডেক্সের বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণ ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলার চার্জ গঠন ছুটির ঘোষণা ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক হবিগঞ্জসহ দেশের ৬১ জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ॥ পরবর্তী চেয়ারম্যান নিয়ে আলোচনা সদর থানার ওসি মাসুক আলী আজমিরীগঞ্জ বদলি ॥ নতুন ওসি গোলাম মর্তুজা বানিয়াচংয়ে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন আবারও মাংসের অতিরিক্ত দাম আদায় ॥ ক্রেতাদের নাভিশ^াস হবিগঞ্জে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৫৮ জন শায়েস্তাগঞ্জের পুলিশ সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতন মামলা দায়ের
ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কঠোর গোপনীয়তায় এমপিও ছাড়! তিন বছর ধরে ৩ সহকারি, মৌলভী পদোন্নতি ও ডাবল ইনডেক্সের বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কঠোর গোপনীয়তায় এমপিও ছাড়! তিন বছর ধরে ৩ সহকারি, মৌলভী পদোন্নতি ও ডাবল ইনডেক্সের বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ হবিগঞ্জে এমপিওভুক্ত দুটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে এমপিওভুক্তি করা হলো এক ইনডেক্স চলাকালীন সময়ে আরেক ইনডেক্সে নিয়োগ প্রদান। দুটি মাদ্রাসায় সহ সুপার ও সুপার পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদনের যোগ্যতা না থাকার পরও মোঃ ফজলুর রহমান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ বদরুর রেজা’র আবেদন গ্রহন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। ঘুষের কাছে নতি-স্বীকার করে দেশে আইন আছে আইনের প্রয়োগ নেই এমনটাই প্রমাণ করতে যাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা! হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শরিফাবাদ দাখিল মাদ্রাসা ও নুরে মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩ জন সহকারি মৌলভীকে সুপার ও সহ সুপার পদে এমপিওভুক্ত করেছেন বিগত ৩ বছর আগে। এদিকে এমপিও শর্ত অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকার পরও শিক্ষা মন্ত্রনালয় মোঃ ফজলুর রহমান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ বদরুর রেজাকে (পুর্বের ইনডেক্সধারী আর২০২৯২৩৯, এন২১০২১৩০ ও এস২০৩০৬৪৬) তবুও ওই তিন সহকারি মৌলভীকে (নতূন ইনডেক্সধারী এম০০১৬৫৫৩, এম০০১৬১০৪ ও এম০০১৫৭৮২) এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিয়োগের এক মাস পরই ২ বছরের বেতন ভাতাদি তুলে নেওয়া হয়েছে। শরিফাবাদ দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সহ সুপার মোঃ ফজলুর রহমান (ইনডেক্স নং আর২০২৯২৩৯) বগুড়ার দুপছাচিয়া উপজেলার খাদিজা খাতুন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী পদে কর্মরত ছিলেন, নুরে মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চুনারুঘাট উপজেলার চাটপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসায় (ইনডে´ নং এন২১০২১৩০) সহকারি মৌলভী পদে কর্মরত ছিলেন এবং নুরে মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ বদরুর রেজা (ইনডে´ নং এস২০৩০৬৪৬) নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর ফুলতলি দাখিল মাদ্রাসায় সহকারি মৌলভী পদে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রের শিক্ষা খাতে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দুর্নীতির বেড়াজালে বন্দী হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজে-কলমে আইন আছে বাস্তবে প্রয়োগ নেই, অধিকাংশ আইনই কাগজে-কলমে রয়েছে, বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই। জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের স্বারক নং ৫৭.২৫.০০০০.০০১.০৮.০০২.২০.১৬ তারিখ: ০১ মে ২০২০ তারিখে মহা পরিচালক সফিউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত স্বারক পত্রে ১১টি নির্দেশিকার ১০ নং নির্দেশিকায় রয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান (মাদ্রাসা) জনবল কাটামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ এর ১৮.১(ঙ) মোতাবেক এমপিও ভুক্তির জন্য জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ/নিবন্ধন সনদ প্রদান, জাল নিয়োগ সংক্রান্ত- রেকর্ড প্রদান এবং প্যাটার্ন বহিভূত পদে এমপিওর জন্য আবেদন প্রেরন করলে প্রতিষ্টান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনবল কাটামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ এর ১১.৬ ধারায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের(মাদ্রাসা) শিক্ষক-কর্মচারিদের চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। বয়স ৬০ বছর পুর্ন হবার পর কোন প্রতিষ্টানে প্রতিষ্টান প্রধান/ সহ প্রধান/ শিক্ষক-কর্মচারিকে কোন অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না। অথচ ৬২ ও ৬১ বছরের দুই বৃদ্ধার এমপিও ছাড় করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শরিফাবাদ দাখিল মাদ্রাসা ও দারুল হুদা দাখিল মাদ্রাসায় দুই বৃদ্ধার এমপিও ছাড় করা হয়েছে। নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে হবিগঞ্জ দারুছুন্নাহ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্ত রেজুলেশনসহ যত সীল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে সবকিছুই ভুয়া এবং সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে তৈরি। দেখা যায়, শিক্ষক কর্মচারীদের অধিকাংশ এমপিও আবেদন ফাইলে যেসব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কপি জমা দেয়া হয়েছে ওই তারিখের পত্রিকায় এ ধরনের কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই নেই, শুধু তাই নয় ওই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়েই ভুয়া ইন্টারভিউ বোর্ড দেখিয়ে এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়েছে। ইন্টারভিউ রেজাল্ট শীটে নিয়োগ বোর্ডের সীল স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে এসব স্বাক্ষর তাদের নয় এবং এগুলো জালিয়াত চক্রের কারসাজি বলে তারা ধারণা করছেন। জালিয়াতি করে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় একটি স্টাফ প্যাটার্ন থেকে এক সাথে সবাইকে না দিয়ে কঠোর গোপনীয়তায় এক দুজন করে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এমপিওভুক্তির কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল আহসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পরিদর্শক ফেরদৌসী আলমকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে, ফেরদৌসী আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে, জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এমপিও বাতিলসহ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ গত তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুয়া এমপিওভুক্তির ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Innovativenews
Design & Developed BY innovativenews